Dhaka , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ এসিসির সভায় যোগ দিতে কুয়েতে গেলেন বুলবুল নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঁশিয়ারি – ‘ভোট ডাকাতি হলে মির্জা আব্বাসের রাজত্ব খানখান করে দিবো’ সেনাবাহিনীর ভূমিকা এখন পর্যন্ত প্রশংসনীয়: জামায়াত আমির ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয়, বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি কুমিল্লা-৩; মুরাদনগরে টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের নেতা আটক রাজধানীতে প্রশান্তি হাসপাতাল লিমিটেড–এ ডা. এস এম আব্দুল আলিম–এর চিকিৎসার আড়ালে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নতুন নাম ‘স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 18

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ছাড়ের সুবিধা বাংলাদেশকে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে দেশটির বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য একক সর্ববৃহৎ বাজার হওয়ায়, এই সুবিধা দেশীয় পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তির ফলে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ২০ শতাংশ ছিল। পাশাপাশি, এ চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক থেকে ছাড় পাবে বাংলাদেশ। ফলে পাল্টা শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে।

কেন বাংলাদেশ লাভবান হবে

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য একক সর্ববৃহৎ বাজার, যেখানে আমাদের তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ যায়। সুতরাং, এই সুবিধা দেশীয় পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

দি অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬.৭৬ বিলিয়ন ডলার। মোট আমদানিকৃত পোশাকের মধ্যে প্রায় ৫.১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ছিল তুলাভিত্তিক এবং অবশিষ্ট অংশ ছিল নন-কটন বা তুলাবহির্ভূত পণ্য।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রায় ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে সেই তুলা দিয়ে পণ্য উৎপাদন করলে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। কারণ, এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ছাড় সুবিধা তখন শূন্য হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, নন-কটন পণ্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশই নন-কটন পণ্য, ফলে এই খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত

Update Time : ০২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ছাড়ের সুবিধা বাংলাদেশকে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে দেশটির বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য একক সর্ববৃহৎ বাজার হওয়ায়, এই সুবিধা দেশীয় পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তির ফলে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ২০ শতাংশ ছিল। পাশাপাশি, এ চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক থেকে ছাড় পাবে বাংলাদেশ। ফলে পাল্টা শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে।

কেন বাংলাদেশ লাভবান হবে

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য একক সর্ববৃহৎ বাজার, যেখানে আমাদের তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ যায়। সুতরাং, এই সুবিধা দেশীয় পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

দি অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬.৭৬ বিলিয়ন ডলার। মোট আমদানিকৃত পোশাকের মধ্যে প্রায় ৫.১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ছিল তুলাভিত্তিক এবং অবশিষ্ট অংশ ছিল নন-কটন বা তুলাবহির্ভূত পণ্য।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রায় ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে সেই তুলা দিয়ে পণ্য উৎপাদন করলে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। কারণ, এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ছাড় সুবিধা তখন শূন্য হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, নন-কটন পণ্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশই নন-কটন পণ্য, ফলে এই খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।