রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ডা. এস এম আব্দুল আলিম পরিচালিত প্রশান্তি হাসপাতাল লিমিটেড–কে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, ভয়ভীতি ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমে আছে।
.
আবাসিক ভবনে অবৈধ হাসপাতাল পরিচালনার অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালটি একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে বেড, ইনডোর, আইসিইউ ও ডায়াগনস্টিক সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ এ ধরনের বাণিজ্যিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
.
কর্মচারীর আড়ালে সন্ত্রাসী লালন-পালনের অভিযোগ
এলাকাবাসীর ভাষ্য, হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর পরিচয়ে বহিরাগত ও প্রভাবশালী লোকজন নিয়মিত অবস্থান করে। তাদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

.
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ–এর শাসনের ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাসপাতালটির মালিক ডা. এস এম আব্দুল আলিম অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক তদারকি এড়িয়ে চলেছেন। তাদের দাবি, তৎকালীন শাসক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগ নিয়ে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ‘ধরাছোঁয়ার বাইরে’ ছিল। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াই হাসপাতালটিকে বেপরোয়া করে তোলে— যার ফলে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ বারবার উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

.
রোগীর স্বজনদের ভয়ভীতি ও আটকে রাখার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিল নিয়ে আপত্তি করলে আত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। কারও কারও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, আলাদা কক্ষে বসিয়ে রাখা কিংবা চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবার জায়গা না হয়ে আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের মন্তব্য।
.
ভবন মালিককে হয়রানির অভিযোগ
যে আবাসিক ভবনে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে, সেই ভবনের মালিককে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ভাড়া, চুক্তি ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিরোধ হলেই হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
.
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে দখলচেষ্টার অভিযোগ
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশপাশের ভবনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা চিকিৎসা সেবার নামে জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছেন— এমন অভিযোগও রয়েছে। দোকান ও ফ্ল্যাট মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ, কম দামে জায়গা ছাড়তে বলা কিংবা দখলের অপচেষ্টার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
.
২০১৯ সালের হাইকোর্ট রিট: পুরোনো অভিযোগের ভয়াবহ চিত্র
সেই সময় আদালতে দায়ের করা রিটে বলা হয়—
-
মৃত রোগীর মরদেহ বিল না দিলে ছাড়েনি হাসপাতাল
-
আত্মীয়কে রুমে আটকে রাখা
-
মোবাইল কেড়ে নেওয়া
-
‘বেওয়ারিশ লাশ’ হিসেবে পাঠানোর হুমকি
-
জোর করে আইসিইউতে পাঠিয়ে অতিরিক্ত বিল
পরিবারের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাসপাতাল বিল + ৬০ হাজার টাকা ওষুধ = প্রায় ২ লাখ টাকা।
.
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছেন—
লাইসেন্স, আর্থিক লেনদেন, নিরাপত্তা ও কার্যক্রম সবকিছু দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
.
স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় ভরসা খোঁজে। একজন চিকিৎসকের কাছে রোগী মানে জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব, মানবিকতা ও সহমর্মিতা।
কিন্তু যদি সেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, জিম্মি করে অর্থ আদায় ও অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ ওঠে, আর যদি এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন ডা. এস এম আব্দুল আলিম, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—
যদি চিকিৎসকই মানবিকতার সীমা ভুলে যান, তাহলে মানুষের শেষ আশ্রয় কোথায়? আস্থার জায়গা কোথায়?
এ কারণেই এলাকাবাসী দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Reporter Name 












