একাধিক ধারাবাহিক ভূমিকম্প রাজধানী ঢাকার বড় ধরনের ভূমিকম্পঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপত্তিস্থল ঢাকার খুব কাছে হওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঘনবসতি—সব মিলিয়ে রাজধানী ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।
গত শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে মাত্র ৩১ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশে চারটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল শুক্রবারের নরসিংদীর মাধবদীমুখী ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। তীব্র কম্পনে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; নিহত হন ১০ জন, আহত হন ৬০০–র বেশি মানুষ।
শনিবার আরও তিনটি ভূমিকম্প হয়—নরসিংদীতে ৩.৩ ও ৪.৩ মাত্রার এবং ঢাকার বাড্ডায় ৩.৭ মাত্রার। বিশেষজ্ঞরা এসব ধারাবাহিক মৃদু ও মাঝারি কম্পনকে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য পূর্বসংকেত হিসেবে দেখছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত পাঁচ বছরের তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে রেকর্ড হওয়া ৩৯টি ভূমিকম্পের ১১টির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার ৮৬ কিলোমিটারের মধ্যে—অর্থাৎ প্রায় ২৮ শতাংশই রাজধানীর নিকটে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রা ৫.৭, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫.৬ (লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ)।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, নরসিংদীর নিচে একটি বড় সাব-ফল্ট রয়েছে, যা ঢাকার দিকেও সম্প্রসারিত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী তিনটি সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের কারণে এলাকায় নিয়মিত কম্পন হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Reporter Name 












