অ্যাশেজে প্রথমবারের মতো আম্পায়ারিং করছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। আর সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই তার দেওয়া এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে উঠে তুমুল বিতর্ক। পার্থে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের ২৮তম ওভারে জেমি স্মিথের বিরুদ্ধে কট-বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে তৈরি হয় এই আলোচনা।
অস্ট্রেলিয়ার ডগেটের লেগ-সাইডের একটি বল পুল করতে গেলে ব্যাটে লাগার শব্দ শুনতে পান শর্ট লেগে থাকা ট্র্যাভিস হেড। উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারিও আত্মবিশ্বাসী আপিল করেন। তবে অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিতিন মেনন ‘নট আউট’ দেন। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন।
টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা শরফুদ্দৌলা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে রিপ্লেগুলো বিশ্লেষণ করেন। ধারাভাষ্যকার সিমন মান মন্তব্য করেন, “আমি যত দেখি, এটা অন্যতম দীর্ঘ সময়ের রিভিউ। প্রথম রিপ্লেতে শব্দ পাওয়া গেলেও পরের ফুটেজে দেখা যায় বল ব্যাট অতিক্রম করে যাওয়ার পরই শব্দ হয়েছে। তাই শুরুতে সিদ্ধান্ত বদলাতে দ্বিধায় পড়েন তিনি।
পরপর একাধিক রিপ্লে দেখে অবশেষে শরফুদ্দৌলা সিদ্ধান্ত বদলান। তিনি বলেন, বল ব্যাট পার করার সময় একটি স্পাইক দেখা গেছে। বল ব্যাট স্পর্শ করেছে। এরপর অন-ফিল্ড আম্পায়ার মেননকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান। হতাশ স্মিথ মাঠ ছাড়েন, আর গ্যালারি থেকে ভেসে আসে দুয়ো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ তাদের লাইভ বিবরণীতে এই সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা লিখেছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রমাণ ছিল না। প্রযুক্তি যদি নিশ্চিত না হয়, মাঠের সিদ্ধান্তেই থাকা উচিত ছিল।
তবে পাঁচবারের বর্ষসেরা আম্পায়ার সাইমন টফেল শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আরটিএস (রিয়েল টাইম–স্নিকো) প্রযুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, বল ব্যাট পার হওয়ার এক ফ্রেম পরও যদি স্পাইক দেখা যায়, সেটা চূড়ান্ত প্রমাণ ধরা হয়। এই ঘটনায় ঠিক সেটাই ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে গিয়ে সময় লেগেছে। আমার মতে, সিদ্ধান্ত সঠিক-ব্যাটসম্যান অবশ্যই আউট।
অ্যাশেজে নিজের প্রথম দায়িত্ব পালনেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শরফুদ্দৌলা—তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি প্রযুক্তি অনুযায়ীই সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

Reporter Name 














